রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চতুরঙ্গ’ (১৯১৬) মূলত একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- এটি সাধুভাষায় রচিত রবীন্দ্রনাথের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও পরিণত উপন্যাস, যেখানে চরিত্রগুলোর মনোজগতের দ্বন্দ্ব, বিশ্বাস-সংশয়, প্রেম-ত্যাগ এবং মানব সম্পর্কের জটিলতা দর্শন ও যুক্তির আলোকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- উপন্যাসটি চারটি পর্বে (জ্যাঠামশাই, শচীশ, দামিনী, শ্রীবিলাস) বিভক্ত, যা মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করে
চতুরঙ্গ উপন্যাসের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: চরিত্রগুলোর অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ও মনস্তত্ত্ব এখানে প্রধান
- দার্শনিক দ্বন্দ্ব: যুক্তি (জ্যাঠামশাই/শচীশ) এবং আবেগ বা প্রেমের (দামিনী) দ্বন্দ্ব উপন্যাসের মূল উপজীব্য
- ঐতিহ্য বনাম আধুনিকতা: প্রথাগত সমাজের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও মানবিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তুলে ধরা হয়েছে
- নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি: দামিনী চরিত্রটির মাধ্যমে নারীর নিজস্ব অস্তিত্ব ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে
- চারটি পর্ব: উপন্যাসটি চারটি প্রধান চরিত্রের নামে চারটি পর্বে বিভক্ত, যা একসাথে মানুষের জীবনের একটি সামগ্রিক চিত্র (চতুরঙ্গ) তৈরি করে।
এটি সামাজিক বাস্তবতার চেয়ে মানুষের মনোজগত এবং প্রেমের স্বরূপ উদঘাটনেই বেশি মনোযোগী